দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে আলমগীর মাঝির মাছধরা ট্রলারে ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ। নিলামে এসব ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়, নিষেধাজ্ঞা শেষে এতগুলো মাছ একসাথে পেয়ে আনন্দিত জেলেরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ট্রলারটি মাছ নিয়ে মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছালে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের একটি মাছধরা ট্রলারে বিপুল পরিমাণ এ ইলিশ ধরা পড়ে।
আড়ত সূত্রে জানা গেছে, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা (প্রতি কেজি ২,৮৭৫ টাকা) দরে বিক্রি হয়ে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়।এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে প্রতি কেজি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা হারে বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।
মাছ পাওয়া ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, আমি ১৫ বছর ধরে সমুদ্রে মাছ ধরি।সর্বশেষ ২০২১ সালের ১লা আগস্ট একসাথে ৩৫ মন মাছ পেয়েছিলাম।প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছি। নিষেদাজ্ঞা এবং বৈরী আবহাওয়ায় লোকসানের পর এমন মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।
নিশাত ফিসের আড়তদার শামীম বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে আলিপুর মৎস্য বন্দরে এটাই বড় চালানের ইলিশ। বড় ইলিশ তেমন দেখা নেই বাজারে। সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।এভাবে বড় সাইজের ইলিশ পেলে আমরা আড়তদাররা যেমন লাভবান হতে পারি তেমনি জেলেদেরও ভালো একটা টাকা আমরা দিতে পারি।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড.রাজীব সরকার বলেন,জেলেদের জালে একসাথে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। সঠিক সময়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে শুধু বড় পরিমাণে ইলিশ আহরণ নয়, ছোট ও জাটকা ইলিশ রক্ষা এবং প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।
মাছ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর পর সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাতটা কমে গেলে আরো বেশি ইলিশ ধরা পড়বে। একসাথে এত ইলিশ পাওয়া আমাদের জেলেদের জন্য খুশির খবর।
কেএম